গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট, জ্ঞান মূলক, অনুধাবনমূলক ও শর্ট প্রশ্ন | SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২

গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২

Chapter Overview

গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট ও প্রশ্ন

গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২-এর প্রস্তুতির জন্য সহায়ক। এই অধ্যায়ে স্থিতি, গতি, দূরত্ব, সরণ, দ্রুতি, বেগ ও ত্বরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছে। এসব বিষয় ভালোভাবে বুঝতে গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট পড়ার পাশাপাশি জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন অনুশীলন করা প্রয়োজন।

গতি অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

গতি অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের মাধ্যমে সংজ্ঞা, একক ও মৌলিক ধারণা যাচাই করা যায়। অন্যদিকে অনুধাবনমূলক প্রশ্নে কোনো ঘটনা কেন ঘটে বা দুটি ভৌত রাশির মধ্যে পার্থক্য কী, তা ব্যাখ্যা করতে হয়। তাই গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট পড়ার সময় প্রতিটি বিষয় বুঝে পড়ো এবং নিজের ভাষায় উত্তর লেখার অনুশীলন করো।

গতি অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জ্ঞানমূলক প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সংজ্ঞা, একক এবং মৌলিক তথ্য সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা হয়। গতি অধ্যায়ে স্থিতি, গতি, দূরত্ব, সরণ, দ্রুতি, বেগ ও ত্বরণের সংজ্ঞা ভালোভাবে প্রস্তুত করা দরকার। পাশাপাশি স্কেলার ও ভেক্টর রাশির পার্থক্য এবং সংশ্লিষ্ট রাশিগুলোর একক মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুলভাবে উত্তর লেখার অভ্যাস পরীক্ষায় সহায়তা করে।

জ্ঞান মূলক প্রশ্ন

01.গতি কাকে বলে? [রা.বো.’২৬]
 উত্তর: সময়ের সাথে কোনো কিছুর যদি অবস্থানের পরিবর্তন হয় তবে তাকে গতি বলে।
02.সুষম বেগ কাকে বলে? [চ.বো’২৬; সি. বো.’ ২২]
 অথবা, সমবেগের সংজ্ঞা দাও। [ম.বো’২৬]
 উত্তর: সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তন না হলে, উক্ত বস্তুর বেগকে সুষম বেগ বলে।
03.স্পন্দন গতি কাকে বলে? [ব.বো.’২৪ , চ. বো.’ ২২, চ. বো.’১৯]
 অথবা, সরল স্পন্দন গতি কাকে বলে? [য.বো, সি. বো’২৬]
 উত্তর: পর্যায়বৃত্ত গতি সম্পন্ন কোনো কণা যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময়ে একই পথের বিপরীত দিকে চলে, তবে সে গতিকে স্পন্দন বা দোলন গতি বলে।
04.পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্রটি লিখ। [ব. বো.’২৬, ঢা. বো.’২৩, ২১, সি. বো.’ ২০]
 উত্তর: স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
 অর্থাৎ, v ∝ t
05.প্রসঙ্গ বিন্দু কাকে বলে? [য.বো’২৬]
 উত্তর: যে সুনির্দিষ্ট বিন্দুর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান, স্থিতি বা গতি নির্ণয় করা হয়, তাকে প্রসঙ্গ বিন্দু বলে।
06.পর্যায়বৃত্ত গতি কাকে বলে? [কু.বো.’২৬, দি.বো.’২৩, সি. বো., ম. বো.’২৪, ২৩, ২১, ঢা. বো., রা. বো., সি. বো.’২০]
 উত্তর: একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে।
07.গড় দ্রুতি কাকে বলে? [দি.বো’২৬]
 উত্তর: কোনো বস্তু মোট অতিক্রান্ত দূরত্বকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করলে যে মান পাওয়া যায়, তাকে গড় দ্রুতি বলে।
08.সরণ কাকে বলে? [ম.বো’২৬; দি. বো.’২৪, ২০, ঢা. বো.’১৯, রা.বো.’১৬]
 উত্তর: বস্তুর আদি অবস্থা ও শেষ অবস্থানের মধ্যকার সরলরৈখিক দূরত্বকে সরণ বলে।
09.ঘূর্ণন গতি কাকে বলে? [য.বো’২৫; রা.বো, চ.বো’২২]
 উত্তর: কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট একটি বিন্দু হতে সমদূরত্বে থেকে ঘুরতে থাকে, তবে তাকে ঘূর্ণন গতি বলা হয় ।
10.ভেক্টর রাশি কাকে বলে? [দি. বো.’২৫; কু. য. বো.’২১]
 উত্তর: যেসকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।
11.গতি জড়তা কাকে বলে? [ঢা. বো.’২৪]
 উত্তর: গতিশীল বস্তু যে ধর্মের কারণে সমবেগে গতিশীল থাকতে চায় অর্থাৎ গতিশীল বস্তুর বেগের পরিবর্তন করতে চাইলে বস্তু যে ধর্মটি বাধাদান করে তাকে গতি জড়তা বলে।
12.বেগ কাকে বলে? [য. বো’২৪; কু. বো., ম. বো.’ ২২]
 উত্তর: নির্দিষ্ট দিকে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে।
13.সুষম ত্বরণ বা সমত্বরণ কাকে বলে? [সি.বো.’২৪; কু. বো.’২৩; ব. বো.’ ২১, ঢা. বো.’২০, ব. বো., দি. বো.’১৯, দি. বো.’১৭]
 উত্তর: সময়ের সাথে সাথে ত্বরণের পরিবর্তন না হলে, তাকে সুষম ত্বরণ বলে।
14.গড়বেগের সংজ্ঞা লেখ। [ব.বো.’২৩]
 উত্তর: গতিশীল কোনো বস্তুর মোট সরণকে মোট অতিক্রান্ত সময় দ্বারা ভাগ করলে যে বেগ পাওয়া যায়, তাকে গড়বেগ বলে।
15.স্থিতি কাকে বলে? [ঢা. বো.’২২]
 উত্তর: সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিপার্শ্বের সাপেক্ষে যখন কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না ঘটে, তখন তাকে স্থিতিশীল বস্তু বলে। স্থিতিশীল বস্তুর এরূপ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকাই স্থিতি।
16.স্কেলার রাশি কাকে বলে? [য. বো.’২২]
 উত্তর: যে সকল রাশিকে প্রকাশ করার জন্য দিকের প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র মান দিয়েই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে।
17.দ্রুতি কাকে বলে? [ম. বো.’ ২২, দি. বো.’ ২১]
 উত্তর: সময়ের সাথে দূরত্বের পরিবর্তনের হারকে দ্রুতি বলে।
18.পড়ন্ত বস্তুর প্রথম সূত্রটি লিখ। [চ. বো.’ ২১]
 উত্তর: স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
19.গতির একটি সমীকরণ লিখ। [য. বো.’ ২১]
 উত্তর: গতির একটি সমীকরণ হলো:v = u + at; যেখানে u আদিবেগ, v শেষবেগ, a সমত্বরণ, t অতিক্রান্ত সময়।
 [Note: এখানে অন্য যেকোনো সমীকরণ লিখলেও হবে।]
20.গড় দ্রুতি কাকে বলে? [ব. বো.’ ২১, ব. বো.’২০]
 উত্তর: গতিশীল কোনো বস্তুর মোট অতিক্রান্ত দূরত্বকে মোট অতিক্রান্ত সময় দ্বারা ভাগ করলে যে দ্রুতি পাওয়া যায়, তাকে গড় দ্রুতি বলে।
21.মন্দন কাকে বলে? [য.বো.’২৩, ম. বো.’ ২১, সকল বোর্ড’১৮]
 উত্তর: সময়ের সাথে বস্তুর বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে।
22.পড়ন্ত বস্তুর তৃতীয় সূত্রটি বিবৃত কর। [চ. বো.’২৩, ২০, য.বো.’ ১৭]
 উত্তর: স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। সুতরাং, h ∝ t2.
23.প্রসঙ্গ কাঠামো কাকে বলে? [সি. বো.’ ১৯]
 উত্তর: যে দৃঢ় ব্যবস্থার সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান, স্থিতি, গতি ইত্যাদি নির্ণয় করা হয় তাকে প্রসঙ্গ কাঠামো বলে।
24.তাৎক্ষণিক দ্রুতি কী? [দি. বো’২৪; কু. বো.’২১]
 উত্তর: সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে, সময়ের সাথে বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক দ্রুতি বলে।
25.ত্বরণের সংজ্ঞা লেখো।
 অথবা, ত্বরণ কাকে বলে? [ব.বো’২৫; রা.বো’২৪; দি.বো’২২,২১; য.বো’২০; সি.বো’১৯]
 উত্তর: নির্দিষ্ট দিকে সময়ের সাথে বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।
26.চলন গতি কাকে বলে? [ঢা.বো’২৬, ২১; ব.বো’২২]
 উত্তর: কোনো কিছু যদি এমনভাবে চলতে থাকে যেন বস্তুর সকল কণা একই সময়ে একই দিকে যেতে থাকে, করে, তাহলে সেই গতিকে চলন গতি বলে।
27.দূরত্ব কাকে বলে?
 উত্তর: এক অবস্থা হতে অন্য অবস্থানে পৌঁছাতে অতিক্রান্ত পথের দৈর্ঘ্যকে দূরত্ব বলে।
28.সরলরৈখিক গতি কাকে বলে?
 উত্তর: যদি কোনো কিছু সরলরেখার উপর চলাচল করে, তাহলে তার গতিকে সরলরৈখিক গতি বলে।
15 সেকেন্ড
অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...
ফাইল ডাউনলোড করুন

গতি অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অনুধাবনমূলক প্রশ্নে শুধু সংজ্ঞা জানলেই হয় না; কোনো ধারণা কেন সঠিক বা কীভাবে একটি ঘটনা ঘটে, তা ব্যাখ্যা করতে হয়। যেমন, দূরত্ব ও সরণ কেন এক নয়, বেগ ও দ্রুতি কেন আলাদা এবং কোনো বস্তুর বেগ পরিবর্তিত হলে ত্বরণ কীভাবে সম্পর্কিত হয়—এসব প্রশ্নের উত্তর যুক্তিসহ বুঝতে হবে। বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে ধারণাগুলো ব্যাখ্যা করার অনুশীলন করলে অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর লেখা সহজ হয়।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

01.বেহালার তারের গতি সরল স্পন্দন গতি— ব্যাখ্যা কর।[চা.বো'২৬]

উত্তর:যে পর্যায়বৃত্ত গতিতে কোনো বস্তুর ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়, তাকে সরল স্পন্দন গতি বলে। বেহালার তারের গতি সরল স্পন্দন গতির শর্তগুলো মেনে চলে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:

(i) বেহালার তারকে স্থির অবস্থা থেকে টেনে ছেড়ে দিলে এটি তার সাম্যাবস্থানকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট পথে পর্যায়ক্রমে স্পন্দিত হতে থাকে। তাই এর গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি।

(ii) তারটির সরণ যখন সাম্যাবস্থান থেকে যেকোনো দিকে ঘটে, তখন এর ওপর প্রযুক্ত বল বা ত্বরণ সরণের বিপরীত দিকে অর্থাৎ সাম্যাবস্থানের দিকে ক্রিয়া করে।

(iii) তারটির ওপর ক্রিয়াশীল প্রত্যয়নী বল সরণের সমানুপাতিক হয় (F∝−x)।

যেহেতু বেহালার তারের গতি সরল স্পন্দন গতির সকল বৈশিষ্ট্য মেনে চলে, তাই এর গতি সরল স্পন্দন গতি।

02.পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের গতি কোন ধরনের গতি? ব্যাখ্যা কর।[চা.বো'২৬]

উত্তর:পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের গতি হলো পর্যায়বৃত্ত গতি।

পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরার সময় চাঁদ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট বিন্দুকে একই দিকে একইভাবে অতিক্রম করে, যা পর্যায়বৃত্ত গতির বৈশিষ্ট্য। কোনো চলমান বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করলে তার গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। তাই পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি।

03.গতিশীল বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব থাকলেও সরণ নাও থাকতে পারে ব্যাখ্যা কর।[সি.বো'২৫]
অথবা, গতিশীল বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব কখনও শূন্য হয় না কিন্তু সরণ শূন্য হতে পারে-ব্যাখ্যা কর।[সি.বো'২৬; কু. বো.'২১, সি. বো., ম. বো.'২০]

উত্তর:গতিশীল বস্তু যত পথ অতিক্রম করতে থাকে, ততই অতিক্রান্ত দূরত্ব বাড়তে থাকে। তবে গতিপথের কোনো মুহূর্তে আদি অবস্থানে ফিরে এলে সরণ শূন্য হয়ে যায়।

গতিশীল বস্তু যে পরিমাণ পথ অতিক্রম করে, তার দৈর্ঘ্যই বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব। যেহেতু অশূন্য দ্রুতি সম্পন্ন কোনো বস্তু কর্তৃক অতিক্রান্ত পথের দৈর্ঘ্য শূন্য থেকে বেশি হয় এবং এই মান সর্বদা বাড়তেই থাকে, তাই বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব কখনো শূন্য হয় না বা কমে না। অন্যদিকে, গতিপথের শেষ ও আদি অবস্থানের মাঝে রৈখিক দূরত্বকে সরণ বলে।

তাই গতিশীল বস্তু গতিপথের আদি অবস্থানের কাছাকাছি এলে সরণ কমে যায়, দূরে গেলে সরণ বেড়ে যায় এবং আদি অবস্থানে ফিরে এলে সরণ শূন্য হয়ে যায়।

04.কোনো বস্তুর গড় বেগ শূন্য হলেও গড় দ্রুতি শূন্য নাও হতে পারে-ব্যাখ্যা কর।[কু.বো.য.বো'২৬; ম. বো'২৪; সি. বো.' ২১, ব. বো.'২০]

উত্তর:অনেক সময় বস্তুর সরণ শূন্য হলেও অতিক্রান্ত দূরত্ব অশূন্য হয়। ফলে গড়বেগ শূন্য হলেও গড় দ্রুতির মান শূন্য হয় না।

গতিশীল কোনো বস্তু কিছু পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে আদি অবস্থানে ফিরে আসলে সরণ শূন্য হয়, কিন্তু দূরত্ব অশূন্য মান থাকে। মোট সময় দ্বারা সরণ ও দূরত্বকে ভাগ করলে যথাক্রমে গড়বেগ ও গড় দ্রুতি পাওয়া যায়। তাই উক্ত ক্ষেত্রে গড়বেগও শূন্য হয়ে যায়, কিন্তু গড় দ্রুতির মান শূন্য হয় না।

05.ভিন্ন ভরের দুটি বস্তু একই সময়ে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।[দি.বো'২৬]

উত্তর:ভিন্ন ভরের দুটি বস্তু একই সময়ে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত না হওয়ার মূল কারণ হলো বাতাসের বাধা। পড়ন্ত বস্তু সূত্রানুসারে, স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে। এই সূত্রটি কেবল শূন্য মাধ্যমে প্রযোজ্য। বাস্তবে যখন কোনো বস্তুকে মুক্তভাবে পড়তে দেওয়া হয়, তখন বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল এবং বাতাসের ঊর্ধ্বমুখী বাধা বল উভয়ই ক্রিয়া করে। বাতাসের এই বাধা বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না, বরং বস্তুর আকার, আকৃতি এবং বেগের উপর নির্ভর করে। বেশি ভরের বস্তুর ওজন (অভিকর্ষ বল) বাতাসের বাধা বলের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এর পড়ন্ত গতি খুব সামান্য প্রভাবিত হয়। কিন্তু কম ভরের বস্তুর ওজন কম হওয়ায় বাতাসের বাধা বল এর গতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে এবং এর পতনকে বিলম্বিত করে।

একারণে, বাতাসের উপস্থিতিতে ভিন্ন ভরের দুটি বস্তু (যেমন একটি পাথর ও একটি পাখির পালক) একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে একই সময়ে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয় না।

06.পড়ন্ত বস্তুর সূত্র পরীক্ষায় বিনা বাধায় বস্তু নিচে পড়ার প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।[ম.বো'২৬]

উত্তর:পড়ন্ত বস্তুর সূত্র স্থির অবস্থান হতে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর জন্য প্রযোজ্য। স্বাভাবিক অবস্থায় বায়ুর ঘর্ষণের জন্য বস্তু মুক্তভাবে পড়তে পারে না, তাই সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই পড়ন্ত বস্তুর সূত্র পরীক্ষায় বিনা বাধায় বস্তু নিচে পড়ার প্রয়োজন হয়।

07.সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না–ব্যাখ্যা কর।[কু. বো.'২৩, ঢা. বো.'২২, ব. বো.'২১; ব.বো.'২৪]
অথবা, সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না কেন?[ম.বো'২৬]

উত্তর:কোনো বস্তুর সরণ শুধুমাত্র ওই বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের উপর নির্ভর করে, বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না। কারণ বস্তুর সরণ হলো প্রথম বিন্দু থেকে বস্তুর অবস্থানের শেষ বিন্দুর মধ্যবর্তী সরলরৈখিক দূরত্ব। ধরি, কোনো একটি বালক A বিন্দু থেকে B বিন্দুতে চিত্রের দেখানো আঁকাবাঁকা পথে যায়। এক্ষেত্রে, তার সরণ হবে শুধু A থেকে B এর মধ্যবর্তী সরলরৈখিক দূরত্বের সমান। সে মাঝখানে যেভাবেই পথ অতিক্রম করুক না কেন, তা সরণের উপর প্রভাব ফেলবে না।

08."দোলন গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি"– ব্যাখ্যা কর।[ঢা.বো'২৫]

উত্তর:যে গতিতে একটি চলনশীল বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে, তাকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে।

দোলন গতির ( যেমন- দোলনা বা পেন্ডুলাম) ক্ষেত্রে বস্তুটি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একইভাবে তার সাম্যাবস্থানকে অতিক্রম করে যায়। তাই বলা যায়, দোলন গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি।

09.সকল ঘূর্ণন গতি পর্যায়বৃত্ত গতি নয়- ব্যাখ্যা কর।[রা.বো'২৫]

উত্তর:ঘূর্ণনরত কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর পুনরায় পূর্বের অবস্থানে ফিরে না আসে, তবে তার গতি পর্যায়বৃত্ত হবে না।

ঘূর্ণনরত বস্তু যদি সমকৌণিক বেগে না ঘোরে, তবে তা নির্দিষ্ট সময় পরপর পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে না। অন্য কথায়, কোনো বস্তু যদি তার ঘূর্ণন গতির প্রতিটি আবর্তনে সমান সময় না নেয়, তবে তার গতি ঘূর্ণন গতি হলেও পর্যায়বৃত্ত হয় না। তাই সকল ঘূর্ণন গতি পর্যায়বৃত্ত গতি নয়।

10.সুষম বেগে চলমান বস্তুর গতিপথ শুধুমাত্র সরলরৈখিক- ব্যাখ্যা কর।[চ.বো'২৫]

উত্তর:সুষম বেগে চলার জন্য কোনো বস্তুর বেগের মান ও দিক সর্বদা একই থাকা আবশ্যক।

সুষম বেগে চলমান বস্তুর গতি মানে হলো, বস্তুটি প্রতি সেকেন্ডে সমান দূরত্ব অতিক্রম করছে এবং তার গতির দিক অপরিবর্তিত থাকছে। গতি সুষম হতে হলে কেবল বেগের মান নয় বরং বেগের মান ও দিক উভয়ই অপরিবর্তিত থাকতে হবে। যদি কোনো বস্তু বক্র পথে চলে, তবে তার গতির দিক ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়, ফলে সেটি সুষম বেগে চলতে পারে না। কারণ, দিক পরিবর্তনের ফলে বেগ পরিবর্তিত হয়, আর বেগ পরিবর্তন মানেই ত্বরণ রয়েছে। কিন্তু সুষম বেগে চলার জন্য ত্বরণ শূন্য হতে হয়। এজন্য, সুষম বেগে চলমান বস্তুর গতিপথ কেবলমাত্র সরলরৈখিক হতে পারে।

11."মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব, ঐ সময়ে প্রাপ্ত বেগের বর্গের সমানুপাতিক"-ব্যাখ্যা কর।[ব.বো'২৫]

উত্তর:স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত কোনো বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তা ঐ বস্তুর, ঐসময়ের বেগের বর্গের সমানুপাতিক।

বিনা বাধায় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু যদি পতন শুরুর t সময় পর h দূরত্ব অতিক্রম করে v বেগ লাভ করে, তাহলে বলা যায়,v2= u2+ 2gh। যেহেতু বস্তুটি স্থির অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করে সেহেতু,v2= 2gh।

অর্থাৎ,v2∝ h(যেহেতু2gধ্রুবক)। এখান থেকে বলা যায় যে কোনো পড়ন্ত বস্তুর বেগ যে হারে বাড়ে, এর উচ্চতা তার বর্গ হারে বাড়ে। অর্থাৎ পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব ওই সময়ের বেগের বর্গের সমানুপাতিক।

12.ঘড়ির পেন্ডুলামের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি এবং স্পন্দন গতি-ব্যাখ্যা কর।[দি. বো'২৫]

উত্তর:স্পন্দন গতিতে কোনো দোলনরত কণা গতিকালের অর্ধেক সময় একদিকে আর বাকি অর্ধেক সময় অপরদিকে দুলতে থাকে।আর পর্যায়বৃত্ত গতিতে কোনো কণা গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে।

ঘড়ির পেন্ডুলাম একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইদিকে একইভাবে সাম্যবিন্দুকে অতিক্রম করে দুলতে থাকে বলে, তার গতি পর্যায়বৃত্ত ও স্পন্দন গতি।

13.দ্রুতি ও বেগের একক ও মাত্রা একই রকম হলেও রাশি দুটি ভিন্ন কেন? ব্যাখ্যা কর।[ম.বো'২৫]
অথবা, বেগ ও দ্রুতি একই ধরনের রাশি নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।[য.বো'২৬]

উত্তর:বেগকে প্রকাশ করতে দিকের প্রয়োজন হয়,কিন্তু দ্রুতিতে প্রয়োজন হয় না বিধায় রাশি দুটি ভিন্ন।

কোনো নির্দিষ্ট দিকে কোনো বস্তুর একক সময়ে সরণকে বেগ বলে। আর দ্রুতি হলো যেকোনো দিকে একক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব। উভয়েরই এককms−1এবং মাত্রাLT−1।

কিন্তু রাশিদ্বয় ভিন্ন কারণ দ্রুতি হলো স্কেলার রাশি আর বেগ হলো ভেক্টর। বেগ প্রকাশ করতে দিক জানা দরকার, যা দ্রুতির জন্য লাগে না।

14.ঘড়ির কাঁটার গতি পর্যায়বৃত্ত গতি না ঘূর্ণন গতি, ব্যাখ্যা করো।[চ. বো.'২৪; য. বো.'২৩]
অথবা, ঘড়ির কাঁটার গতি সরল স্পন্দিত গতি নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।[য. বো.'২৬]

উত্তর:ঘড়ির কাঁটার গতি ঘূর্ণন গতি, আবার পর্যায়বৃত্তও।

কোনো কিছু যদি একটা নির্দিষ্ট বিন্দুর সমদূরত্বে থেকে ঘুরতে থাকে, তাহলে সেটাকে ঘূর্ণন গতি বলে। আবার কোনো গতিশীল বস্তুর যদি নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে একই দিকে একইভাবে অতিক্রম করে, তাহলে সেটাকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। দুটির সব বৈশিষ্ট্যই ঘড়ির কাঁটার গতির মধ্যে রয়েছে।

15.সকল ধরনের বেগের পরিবর্তনে সুষম ত্বরণ হবে কি? ব্যাখ্যা করো।[য. বো'২৪]
অথবা, আঁকাবাঁকা পথে সুষম দ্রুতিতে চলতে পারলেও সুষম বেগে চলা অসম্ভব – ব্যাখ্যা কর।[দি.বো'২৩]

উত্তর:সময়ের সাপেক্ষে বেগের পরিবর্তন সব ধরনের বেগের ক্ষেত্রে সমান হবে না বিধায় সবসময় সুষম ত্বরণও পাওয়া যাবে না।

সময়ের সাথে ত্বরণের পরিবর্তন না হলে তাকে সুষম ত্বরণ বলে। ত্বরণ যেহেতু বেগের পরিবর্তনের হার, তাই বেগের দিক বা মান বা উভয়ের পরিবর্তনের কারণেই ত্বরণ হতে পারে। সুষম ত্বরণের ক্ষেত্রে, এই উভয় ধরনের পরিবর্তন সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় না। একটি সরলপথে চলমান বস্তুর বেগের মানের পরিবর্তনের হার সবসময় সমান হলে সেটি সুষম ত্বরণ। আবার, অপরিবর্তিত মানের বেগের দিকের পরিবর্তনের হার ধ্রুব হলে সেটিও সুষম ত্বরণ। অর্থাৎ বেগের মান ও দিক উভয়ের পরিবর্তনের হার সর্বদা সমান না হলে তা সুষম ত্বরণ হবে না। তাই সকল ধরনের বেগের পরিবর্তনে সুষম ত্বরণ হবে না।

16.সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি কোন ধরনের গতি? ব্যাখ্যা কর।[ঢা. বো.'২৩]

উত্তর:সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি এক ধরনের পর্যায়বৃত্ত গতি।

আমরা জানি, কোনো গতিশীল বস্তু যদি নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে একই দিক থেকে বারবার একইভাবে অতিক্রম করে তাহলে সেটাকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। পৃথিবী সূর্যকে নির্দিষ্ট সময় (365 দিন) পর পর একই দিক থেকে বারবার অতিক্রম করছে, তাই পৃথিবীর গতি পর্যায়বৃত্ত গতি। সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায়, সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি উপবৃত্তাকার পর্যায়বৃত্ত গতি।

17.সমদ্রুতিতে চলমান বস্তুর ত্বরণ থাকতে পারে- ব্যাখ্যা কর।[ব বো.'২৬,২২; রা. বো; কু. বো.'২২, কু. বো'২৪, ঢা. বো'১৯; ম.বো'২১]
অথবা, বেগের পরিবর্তন হলেও দ্রুতি পরিবর্তন নাও হতে পারে- ব্যাখ্যা কর।[ম. বো.' ২১]

উত্তর:সমদ্রুতিতে চলমান বস্তু চলার সময় ক্রমাগত দিক পরিবর্তন করতে থাকলে এর ত্বরণ বিদ্যমান থাকবে।

ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি এবং এটি বস্তুর বেগের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। আবার, বেগও ভেক্টর রাশি। ত্বরণ অর্থাৎ বেগের পরিবর্তন বলতে আমরা বুঝি বেগের মান, দিক কিংবা উভয়ের পরিবর্তন। সুতরাং, এমন হতে পারে যে কোনো বস্তু বেগের মানের পরিবর্তন করছে না অর্থাৎ সমদ্রুতিতে চলছে, কিন্তু দিকের পরিবর্তন করায় তার ত্বরণ থাকছে। যেমন: সমদ্রুতিতে একটি বালক একটি বৃত্তাকার পথে চলছে। প্রতিক্ষেত্রে বেগের মান অপরিবর্তিত থাকলেও বেগের দিকের পরিবর্তন হচ্ছে।

18.বস্তুর গতিবেগ শূন্য হলেও ত্বরণ শূন্য নাও হতে পারে –ব্যাখ্যা কর।[চ.বো.'২৩]

উত্তর:যে মুহূর্তে বস্তুর বেগ শূন্য, তখনও যদি বেগ পরিবর্তনের প্রবণতা থাকে, তবে তার ত্বরণ থাকতে পারে।

প্রত্যেকটি বস্তু পৃথিবীর কেন্দ্র বরাবর একটি আকর্ষণ বলে ক্রিয়ারত যাকে অভিকর্ষীয় বল বলে। বস্তু যদি স্থিরও থাকে, তবুও তার উপর অভিকর্ষীয় বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ক্রিয়ারত থাকে। কোনো বস্তুকে ভূপৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে সর্বোচ্চ অবস্থানে এর বেগ শূন্য। কিন্তু অভিকর্ষের প্রভাবে এর ভূপৃষ্ঠের দিকে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাই ঐ মুহূর্তে এর ত্বরণ বিদ্যমান থাকে। আবার, সরল ছন্দিত গতির বিস্তারে বেগ শূন্য হলেও ত্বরণ সর্বোচ্চ থাকে। তাই বলা যায়, বস্তুর গতিবেগ শূন্য হলেও ত্বরণ শূন্য নাও হতে পারে।

19.বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে ঘূর্ণায়মান সাইকেলের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি– ব্যাখ্যা কর।[ব. বো.'২৩]

উত্তর:নির্দিষ্ট সময় পর পর একই বিন্দু অতিক্রম করে বিধায় বৃত্তাকার পথে সাইকেলের গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি।

কোনো গতিশীল বস্তু যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে একই দিক থেকে বারবার একইভাবে অতিক্রম করে, তাকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে ঘূর্ণায়মান সাইকেল গতিপথের যেকোনো একটি বিন্দুকে একই দিক থেকে বারবার একইভাবে অতিক্রম করে। তাই বলা যায়, বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে ঘূর্ণায়মান সাইকেলের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি।

20.চলন্ত ফ্যানের সুইচ হঠাৎ বন্ধ করার পর ফ্যানের গতি কোন ধরনের গতি? ব্যাখ্যা কর।[সি. বো.'২৩]

উত্তর:চলন্ত ফ্যানের সুইচ হঠাৎ বন্ধ করার পর ফ্যানের গতি ঘূর্ণন গতি, কিন্তু পর্যায়বৃত্ত গতি নয়।

যখন কোনো বস্তু কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু বা অক্ষ থেকে বস্তুকণাগুলোর দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে ঐ বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরে তখন সে বস্তুর গতিকে ঘূর্ণন গতি বলে। এখন ফ্যানের সুইচ অফ করলে ফ্যানের গতি কমতে থাকে বিধায় এটি পর্যায়বৃত্ত নয়। কিন্তু তখনও ফ্যানটির পাখা সেটির কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। তাই এই গতিকে আমরা ঘূর্ণন গতি বলতে পারি।

21.'এ মহাবিশ্বের সকল স্থিতিই আপেক্ষিক, সকল গতিই আপেক্ষিক'– ব্যাখ্যা কর।[চ. বো.' ২২]
অথবা, "কোনো গতিই পরম নয়, পরম নয় কোনো স্থিতিই" ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই পরম স্থির নয়।মহাবিশ্বের সকল উপাদানই কারও না কারও সাপেক্ষে গতিশীল। তাই,কোনো নির্দিষ্ট স্থির প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে অন্য কোনো বস্তুর পরম স্থিতি বা গতি ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।ফলে মহাবিশ্বের সকল গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক।

যে দৃঢ় বস্তুর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান স্থিতি, গতি ইত্যাদি নির্ণয় করা হয় তাকে প্রসঙ্গ কাঠামো বলে। প্রসঙ্গ কাঠামোকে সাধারণত পৃথিবীতে স্থির বিবেচনা করা হয়। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এ মহাবিশ্বে এমন কোনো বস্তু পাওয়া সম্ভব নয় যা প্রকৃতপক্ষে স্থির। কারণ, পৃথিবী প্রতিনিয়ত সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। সূর্য তার গ্রহ, উপগ্রহ নিয়ে ছায়াপথে গতিশীল। কাজেই, আমাদের স্থির বিবেচনাকৃত সকল বস্তুই আসলে আপাত স্থিতিশীল। এর সাপেক্ষে অন্য সকল বস্তুর গতি নির্ণয় করা হয়। সুতরাং, এ মহাবিশ্বের সকল স্থিতিই আপেক্ষিক, সকল গতিই আপেক্ষিক।

22.উপরের দিকে নিক্ষিপ্ত কোনো ঢিলের উত্থান ও পতনের সময় সমান কেন? ব্যাখ্যা কর।[য. বো.' ২২]

উত্তর:উপরের দিকে নিক্ষিপ্ত বস্তুর উত্থান ও পতনের সময় সমান হারে বেগ পরিবর্তন এর কারণেই এর উত্থান ও পতনের সময় সমান হয়।

u1আদিবেগে উপরে নিক্ষিপ্ত কোনো ঢিলের সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সময়:

v1= u1− gt1

⇒0 = u1− gt1⇒u1= gt1[∴ সর্বোচ্চ উচ্চতায় বেগ 0] ∴t1=ug

সর্বোচ্চ উচ্চতা:v12= u2− 2gh⇒02= u2− 2gH

∴H =u122g

সর্বোচ্চ উচ্চতা হতে ভূমিতে পৌঁছাতে:

v22= u22+ 2gh

⇒v22= 02+ 2gH[পড়ার সময় আদিবেগ 0]

⇒v22= 2g ×u122g[∵H =u122g]

∴v2= u1

আবার,v2= u2+ gt2= 0 + gt2

∴v2= gt2

⇒u1= gt1

সুতরাং,gt1= gt2

∴t1= t2

অর্থাৎ, উভয় গতিপথে সমান হারে বেগ হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণে উত্থান ও পতনের সময় সমান।

23.মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে বেগ বৃদ্ধি পায় কেন? ব্যাখ্যা কর।[ব. বো.' ২২; রা. বো.'২১; ব.বো.; দি.বো.'২০]
অথবা, মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর সরণ পরিবর্তনের হার ভিন্ন হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।[কু. বো.'২৬]

উত্তর:মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের কারণে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধি পায়।

মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে বায়ুর বাধা উপেক্ষা করলে এর উপর কেবল পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলই কাজ করে। এই মাধ্যাকর্ষণ বল বস্তুটিকে প্রতি সেকেন্ডে একই হারে ত্বরণ (g = 9.8 ms−2) প্রদান করে। ত্বরণ মানে সময়ের সাথে সাথে বেগের পরিবর্তন, তাই যতক্ষণ বস্তুটি পড়তে থাকে ততক্ষণ তার বেগ প্রতি সেকেন্ডে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। এই ধারাবাহিক ত্বরণের ফলেই বস্তুর বেগ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং মাটিতে পড়ার মুহূর্তে বেগ সর্বাধিক হয়।

24.নিক্ষিপ্ত বস্তুর বেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায় কেন? ব্যাখ্যা কর।[সি.বো.'২৩, দি. বো.' ২২, য. বো.' ২১]

উত্তর:নিক্ষিপ্ত বস্তুর বেগের বিপরীত দিকে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ক্রমাগত মন্দন হিসেবে কাজ করে বিধায় এর বেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।

উপরে নিক্ষিপ্ত বস্তুর বেগের ক্ষেত্রে–

আমরা জানি,v = u − gt... (i)

(i) নং সমীকরণে আদিবেগ, u ও মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ, g ধ্রুব। তাই সময়, t যত বাড়ে gt রাশি আকারে তত বেশি পরিমাণ বেগ, আদিবেগ (u) থেকে কমতে থাকে। ফলে সময় বাড়ার সাথে সাথে নিক্ষিপ্ত বস্তুর বেগ (v) কমতে থাকে। মূলত অভিকর্ষ বল নিক্ষিপ্ত বস্তুকে সর্বদা নিচের দিকে টানে, তাই সময়ের সাথে বেগ কমে।

25."সকল সরল-স্পন্দন গতি পর্যায়বৃত্ত গতি, কিন্তু সকল পর্যায়বৃত্ত গতি সরল-স্পন্দন গতি নয়"-ব্যাখ্যা কর।[য.বো.'২৩, ঢা. বো.'২১]

উত্তর:সকল সরল-স্পন্দন গতিতে গতিশীল বস্তু একটি বিন্দুকে একই সময় পরপর একই দিক হতে বারবার অতিক্রম করে, যা পর্যায়বৃত্ত গতির বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সকল পর্যায়বৃত্ত গতিতে সরল-স্পন্দন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ থাকে না।

গতিশীল বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট বিন্দুকে একই দিক হতে অতিক্রম করলে এই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। অন্যদিকে সরল-স্পন্দন গতি একটি বিশেষ পর্যায়বৃত্ত গতি, যেখানে বস্তুটি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দুই পাশে স্পন্দিত হয় এবং এর গতি পর্যায়ক্রমে বাড়তে ও কমতে থাকে। এই গতিতে পর্যায়বৃত্ত গতির ন্যায় নির্দিষ্ট বিন্দুকে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর অতিক্রম করা হয় কিন্তু এক্ষেত্রে একই দিক থেকে না হয়ে বারবার একই পথে বিপরীত দিক থেকে বিন্দুটিকে অতিক্রম করা হয়। তাই বলা যায়, সকল পর্যায়বৃত্ত গতিতে সরল-স্পন্দন গতির উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ থাকে না। তাই সকল সরল-স্পন্দন গতিই পর্যায়বৃত্ত গতি, কিন্তু সকল পর্যায়বৃত্ত গতি সরল-স্পন্দন গতি নয়।

26.চলন গতি ও ঘূর্ণন গতির মধ্যে দুইটি পার্থক্য লিখ।[কু. বো.'২১, চ. বো.' ১৭]

উত্তর:চলন গতি ও ঘূর্ণন গতির মাঝে পার্থক্য:

চলন গতিঘূর্ণন গতি
(i) চলন গতিতে বস্তুর সকল কণা সমান সময়ে সমান দূরত্ব একই দিকে অতিক্রম করে।(i) ঘূর্ণন গতিতে গতিশীল সকল বস্তুর ক্ষেত্রে সকল কণা সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম নাও করতে পারে। যেমন: বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্লেডের উপর বিভিন্ন কণা।
(ii) এরূপ গতি সম্পন্ন বস্তুকণা কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু হতে সর্বদা সমদূরবর্তী নাও থাকতে পারে।(ii) এরূপ গতি সম্পন্ন বস্তুকণা সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু হতে সমদূরবর্তী হবে।
27.ভেক্টর রাশিকে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিকের প্রয়োজন হয় কেন?[ব. বো.' ২১]

উত্তর:ভেক্টর রাশিসমূহকে সঠিকভাবে নির্দিষ্ট করার জন্য মানের পাশাপাশি দিকের প্রয়োজন হয়।

পদার্থবিজ্ঞানের কিছু ভৌত রাশিকে সঠিকভাবে প্রকাশের জন্য শুধু মান যথেষ্ট হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কণার অবস্থান জানার জন্য মূলবিন্দু হতে কণাটির দূরত্ব যথেষ্ট নয়, এর সাথে কণাটি মূলবিন্দু হতে কোন দিকে সেটিও জানা প্রয়োজন। বেগ, ত্বরণ, ভরবেগ, বল প্রভৃতি রাশিকে সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত ও ব্যবহার করতে হলেও একইভাবে মান ও দিক দুটিই দরকার। এ সকল রাশিকেই ভেক্টর রাশি বলে। সুতরাং, সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত ও ব্যবহার করার জন্য ভেক্টর রাশির মান ও দিক প্রয়োজন।

28.বস্তুর ত্বরণ শূন্য হলে বেগ কীরূপ হবে? ব্যাখ্যা কর।[দি. বো.' ২১]

উত্তর:বস্তুর ত্বরণ শূন্য হলে বেগের পরিবর্তন ঘটেনা, ফলে বস্তু সমবেগে গতিশীল হবে।

ত্বরণ হলো সময়ের সাথে বেগের পরিবর্তনের হার। যদি ত্বরণa = 0হয়, তবেv − ut= 0। মানেv − u = 0, অর্থাৎ বেগ অপরিবর্তিত। এই বেগ শূন্যও হতে পারে (যদি বস্তু স্থির থাকে) অথবা ধ্রুবক কোনো মানেও হতে পারে (যদি বস্তু সমবেগে চলতে থাকে)। উদাহরণ:স্থির গাড়ি (বেগ= 0, ত্বরণ= 0), সোজা রাস্তায় সমবেগে চলা ট্রেন (বেগ ধ্রুবক, ত্বরণ= 0)।

29.দোলায়মান দোলনার গতি কোন ধরনের গতি? ব্যাখ্যা কর।[দি. বো.' ২১]
অথবা, দোলনার গতি স্পন্দন গতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:দোলায়মান দোলনার গতি সরল স্পন্দন গতি।

দোদুল্যমান দোলনা সাম্যাবস্থার দুই পাশে সমানভাবে দুলতে থাকে। সাম্যাবস্থানে দোলনার বেগ সর্বোচ্চ হয়। সাম্যাবস্থান থেকে যত দূরে সরতে থাকে, দোলনার বেগ তত কমতে থাকে। এক সময় দোলনার বেগ শূন্য হয়ে যায় এবং এটি বিপরীত দিকে যাওয়া শুরু করে। দোলনার এই গতি সরল স্পন্দন গতি, যা আবার পর্যায়বৃত্ত গতির একটি বিশেষ রূপ।

30.কম্পনশীল সুর শলাকার গতিকে স্পন্দন গতি বলা হয় কেন?[চ. বো., ম. বো.'২০]

উত্তর:পর্যায়বৃত্ত গতি সম্পন্ন কোনো কণা যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময়ে একই পথের বিপরীত দিকে চলে, তবে সে গতিকে স্পন্দন বা দোলন গতি বলে। স্পন্দন গতির ক্ষেত্রে কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দুই পাশে স্পন্দিত হয়। সুর শলাকাকে কম্পিত করলে এটি এর সাম্যাবস্থান থেকে ডানদিকে সর্বোচ্চ বিন্দুতে এবং সেখান থেকে বামে অগ্রসর হয়ে সাম্যাবস্থানে পৌঁছায়। তারপর আবার বামদিকে সর্বোচ্চ বিন্দুতে এবং সেখান থেকে ডানে অগ্রসর হয়ে সাম্যাবস্থানে পৌঁছায় এবং এভাবে চলতে থাকে। সুর শলাকার এরূপ গতির জন্যই এর গতিকে স্পন্দন গতি বলা হয়।

31.একই উচ্চতার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া একই ভরের একটি খোলা কাগজের তুলনায় একটি মোচড়ানো কাগজ ভূমিতে আগে পৌঁছায় কেন?[ঢা. বো.'১৯]

উত্তর:মোচড়ানো কাগজে খোলা কাগজের তুলনায় পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল কম, ফলে বাতাসের বাধা কম হওয়ায় এটি আগে ভূমিতে পৌঁছায়।

গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর প্রথম সূত্র অনুযায়ী, বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু স্থির অবস্থা ও একই উচ্চতা হতে পতনের ক্ষেত্রে সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। বস্তুর ভরের উপর বস্তুর পতনকাল নির্ভর করে না। সে হিসেবে শূন্যস্থানে খোলা ও মোচড়ানো কাগজ একই সময় মাটি স্পর্শ করা উচিত। কিন্তু মোচড়ানো কাগজের তুলনায় খোলা কাগজের ক্ষেত্রফল বেশি বিধায় বাতাসের বাধার দরুণ এমনটি হয় না। খোলা কাগজের উপর বাতাসের বাধা অধিক কাজ করে, তাই এটি নিচে নেমে আসতে অধিক সময় নেয়। ফলে মোচড়ানো কাগজ আগে মাটি স্পর্শ করে। বাতাসহীন স্থানে এই পরীক্ষাটি করা হলে বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পৌঁছাতো।

32.পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ কেন সুষম ত্বরণের উদাহরণ?[য.বো.'২১]
অথবা, অভিকর্ষ ত্বরণ9.8 ms−2বলতে কী বোঝায়?[সি.বো.'২৬]

উত্তর:পৃথিবীর দিকে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হার সবসময় সুষম হওয়ায় মাধ্যাকর্ষণজনিত/অভিকর্ষ ত্বরণ একটি সুষম ত্বরণের উদাহরণ।

প্রতি সেকেন্ডে বেগের পরিবর্তন যদি সবসময় সমান হয়, তাহলে তার ত্বরণকে সুষম ত্বরণ বলে। মাধ্যাকর্ষণজনিত/অভিকর্ষ ত্বরণের মান9.8 ms−2; যার তাৎপর্য হলো– প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু পড়ন্ত অবস্থায়9.8 ms−1হারে বেগের বৃদ্ধি হওয়া। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে9.8 ms−1করে বেগ বৃদ্ধি পায়, যাকে সুষম ত্বরণ বলে। অর্থাৎ, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণজনিত/অভিকর্ষ ত্বরণ সুষম ত্বরণের উদাহরণ।

33.বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর ত্বরণ ব্যাখ্যা করো।
অথবা, বৃত্তাকার পথে সমবেগে চলা সম্ভব নয় কেন?

উত্তর:বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর দিক প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। সময়ের সাথে বেগের মান বা দিক বা উভয়ের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।

বৃত্তাকার পথে গতিশীল বস্তুর দিক সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় বিধায় বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর ত্বরণ ক্রিয়াশীল থাকে। বক্রপথে গতিশীল কোনো কণার বেগের দিক বক্রপথের স্পর্শক বরাবর।

A বিন্দুতে গতিশীল থাকা অবস্থায়, বেগের দিক AC বরাবর। B বিন্দুতে গতিশীল থাকা অবস্থায়, বেগের দিক BD বরাবর। বেগের দিক সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হওয়ায় ত্বরণ ক্রিয়াশীল।

34.একটি পানিপূর্ণ বোতল ও এক টুকরো কাগজ একসাথে চার তলার বারান্দা থেকে ফেলে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে এবং কেন?

উত্তর:একটি পানিপূর্ণ বোতল ও এক টুকরো কাগজ একসাথে চার তলার বারান্দা থেকে ফেলে দিলে পানিপূর্ণ বোতলটি আগে মাটিতে পড়বে।

গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্রানুসারে, বিনা বাধায় বা শূন্যস্থানে সব বস্তু একই ত্বরণে নিচে পড়ে, কিন্তু বাস্তবে বাতাসের বাধার কারণে এমনটি ঘটে না। পড়ন্ত বস্তুর গতিতে বাতাস ঊর্ধ্বমুখী বাধা প্রদান করে, যার প্রভাব ভারী বস্তুর তুলনায় হালকা ও বেশি পৃষ্ঠতল বিশিষ্ট বস্তুর ওপর অনেক বেশি পড়ে। কাগজের টুকরোর ভর অত্যন্ত কম হওয়ায় এর ওপর বাতাসের বাধার প্রভাব পানিপূর্ণ বোতলের তুলনায় অনেক বেশি হয়। ফলে পানিপূর্ণ বোতলটি তার বেশি ভরের কারণে বাতাসের বাধাকে সহজেই অতিক্রম করে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং কাগজের টুকরোটি বাতাসের বাধার কারণে ধীরে ধীরে নিচে পড়ে।

35.একটি চলন্ত উড়োজাহাজের গতি চলন গতি-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:কোনো গতিশীল বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে বস্তুটির প্রতিটি কণা একই সময় একই দিকে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে, তবে উক্ত বস্তুর গতিকে চলন গতি বলে।

উড়োজাহাজ যখন গতিশীল থাকে তার প্রতিটি অংশ একই সময়ে একই দিকে গতিশীল থাকে, এজন্য চলন্ত উড়োজাহাজের গতি একটি চলন গতি। তবে চলন্ত উড়োজাহাজ যখন দিক পরিবর্তন করে সেই সময়ে এর গতি আর চলন গতি থাকে না।

36.চলন্ত বাস ব্রেক করলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:চলন্ত বাস ব্রেক করলে গতি জড়তার কারণে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের গতির প্রথম সূত্র থেকে আমরা জড়তার ধারণা পাই। জড়তা হলো গতিশীল বস্তুর গতিশীল এবং স্থিতিশীল বস্তুর স্থিতিশীল থাকার প্রবণতা। বাস যখন ব্রেক করে তখন বাসসহ যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ অর্থাৎ, যতটুকু বাসের সাথে সংযুক্ত থাকে ততটুকু থেমে যায় কিন্তু উপরের অংশ গতিজড়তার কারণে সামনের দিকে যেতে চায়। এজন্য বাস ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

37.সরণ কখনো দূরত্বের চেয়ে বেশি হয় না, ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:সরণ কখনো দূরত্বের চেয়ে বেশি হয় না।

বস্তুর আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের মধ্যকার লম্ব দূরত্বই সরণ আর আদি অবস্থান থেকে শেষ অবস্থানে পৌঁছাতে অতিক্রান্ত পথের দৈর্ঘ্যকে দূরত্ব বলে। যেহেতু দুটি বিন্দুর মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব হলো তাদের মাঝের লম্ব দূরত্ব, সেহেতু সরণই দুটি বিন্দুর মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব। একারণে সরণ কখনো দূরত্বের চেয়ে বেশি হয় না।

38.কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে এক পাক ঘুরালে সরণ কত হবে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে এক পাক ঘুরালে সরণ শূন্য হবে।

কোনো বস্তুর আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের মধ্যবর্তী সরলরৈখিক দূরত্বকে সরণ বলে। বৃত্তাকার পথে ঘুরে ১টি পাক সম্পন্ন করলে মূলত আদি অবস্থানেই ফিরে আসা হয়। অর্থাৎ, আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থান একই বিন্দুতে উপরিপাতিত হয়। সুতরাং, বৃত্তাকার পথে এক পাক ঘুরালে সরণ হবে শূন্য।

15 সেকেন্ড
অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...
ফাইল ডাউনলোড করুন

গতি অধ্যায়ের শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর

SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২-এর শর্ট প্রশ্ন প্রস্তুতির সময় গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, রাশির একক, পার্থক্য এবং গতিসংক্রান্ত মৌলিক ধারণাগুলো অনুশীলন করো। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায়, প্রয়োজনীয় তথ্যসহ এবং অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা বাদ দিয়ে লেখার চেষ্টা করবে। এতে উত্তর নির্ভুল ও সহজবোধ্য হয়।

 

SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২-এর শর্ট প্রশ্ন

SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২-এর শর্ট প্রশ্ন প্রস্তুতির জন্য দূরত্ব ও সরণ, দ্রুতি ও বেগ এবং ত্বরণ সম্পর্কিত ধারণাগুলো পুনরাবৃত্তি করো। গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট ও প্রশ্নের উত্তর নিয়মিত অনুশীলন করলে অধ্যায়টির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে রাখা সহজ হবে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

01.মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর সরণ পরিবর্তনের হার একই থাকে না— ব্যাখ্যা কর।[ঢা.বো; চ.বো'২৬]

উত্তর:সময়ের সাথে সরণ পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে। মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে, বস্তুটি মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ 'g' এর প্রভাবে নিচে নামতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে এর বেগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। যেহেতু বেগ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়, তাই মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর সরণ পরিবর্তনের হার অর্থাৎ বেগ একই থাকে না, বরং সুষম হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গতির সমীকরণv = u + gtঅনুসারে, মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর আদিবেগu = 0হলে,v = gtহয়। এখানে সময় t বাড়লে বেগ v ও সমানুপাতিক হারে বাড়ে।

02.বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর ত্বরণ ব্যাখ্যা কর।[ব.বো'২৬]

উত্তর:বৃত্তাকার পথে গতিশীল বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয়ের পরিবর্তনের কারণে ত্বরণ ঘটে।

বৃত্তাকার পথে যদি কোন বস্তু সমদ্রুতিতে গতিশীল থাকে, তবে প্রতি মুহূর্তে তার বেগের দিক পরিবর্তন হয়। আর বেগ যেহেতু ভেক্টর রাশি, কাজেই এক্ষেত্রে এর পরিবর্তন হয় দিক পরিবর্তনের জন্য।

সুতরাং, বৃত্তাকার পথে গতিশীল বস্তুর বেগের দিক প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয় বলে ত্বরণ ঘটে। আবার যদি বস্তু অসমদ্রুতিতে গতিশীল থাকে, তাহলে বেগের মান ও দিক উভয়েরই পরিবর্তন হয়। এক্ষেত্রে বেগের মানের পরিবর্তনের জন্য একধরনের ত্বরণ ঘটে এবং দিকের পরিবর্তনের জন্য আরেক ধরনের ত্বরণ ঘটে।

03.বন্দুক থেকে নির্গত গুলির গতি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।[দি.বো'২৬]

উত্তর:বন্দুক থেকে নির্গত গুলির গতি একটি জটিল গতি। এটি একই সাথে চলন গতি এবং ঘূর্ণন গতির উদাহরণ।

ব্যাখ্যা: গুলি যখন বন্দুকের নল থেকে বেরিয়ে সরলপথে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়, তখন এর গতি হলো চলন গতি। তবে অভিকর্ষের প্রভাবে এর কিছুটা পরাবৃত্তাকার হয়, তাই এটি এক প্রকার প্রাস বা প্রক্ষিপ্ত বস্তুর গতি। আবার, বন্দুকের নলের ভেতরের প্যাঁচানো খাঁজ বা রাইফলিং-এর কারণে গুলিটি নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় নিজ অক্ষের চারপাশে ঘুরতে থাকে। এই গতি হলো ঘূর্ণন গতি। সুতরাং, বন্দুক থেকে নির্গত গুলির গতি হলো চলন গতি ও ঘূর্ণন গতির সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল গতি।

04.গাড়ির চাকার গতি পর্যায়বৃত্ত গতি বলা যায় কি-না যাচাই কর।[ম.বো'২৬]

উত্তর:হ্যাঁ, সমবেগে চলমান গাড়ির চাকার গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা যায়। কোনো কণা বা বস্তুর গতি যদি এরূপ হয় যে, বস্তুর গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই দিকে থেকে বেগে অতিক্রম করে, তবে তাকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। গাড়ি যদি সমবেগে চলে, গাড়ির চাকাও সময়ের সাথে একইভাবে ঘুরবে। তখন চাকার প্রতিটি কণা তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর একই পথ অতিক্রম করে। অর্থাৎ, চাকার ঘূর্ণন গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি। যদিও গাড়ি চলার কারণে চাকাটি স্থান পরিবর্তন করে, কিন্তু এর ঘূর্ণন গতির পর্যায়বৃত্ত ধর্ম অক্ষুণ্ন থাকে; যতক্ষণ গাড়ি সমবেগে চলবে।

05.দ্রুতি ও বেগের মধ্যে পার্থক্য লেখ।[মাদ্রাসা.বো'২৬]

উত্তর:

দ্রুতিবেগ
সময়ের সাথে কোনো বস্তুর দূরত্ব পরিবর্তনের হারকে দ্রুতি বলে।সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে।
দ্রুতি একটি স্কেলার বা অদিক রাশি।বেগ একটি ভেক্টর রাশি।
দ্রুতিv =d(দূরত্ব)t(সময়)বেগ,v⃗ =s⃗(সরণ)t(সময়)
06.গতি শূন্য কিন্তু ত্বরণ শূন্য নয় এটি কি সম্ভব? সম্ভব হলে দেখাও।

উত্তর:হ্যাঁ, সম্ভব। আমরা যদি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে খাড়া উপরের দিকে একটি বস্তু নিক্ষেপ করি, তবে তার সর্বাধিক উচ্চতায় বেগ (u) শূন্য হয়ে যায়। কিন্তু ঐ মুহূর্তে তার ত্বরণ শূন্য হয় না; কেননা পতনকালের প্রতিটি মুহূর্তে ধ্রুবমানের মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g) ক্রিয়াশীল থাকে।

এখানে, u বেগে খাড়া উপরে নিক্ষিপ্ত বস্তু, সর্বোচ্চ বিন্দু B তে গেলে তার বেগ শূন্য হয়; কিন্তু ত্বরণ শূন্য হয় না।

07.বেগের পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু দ্রুতির পরিবর্তন হচ্ছে না- এটা কি সম্ভব? সম্ভব হলে দেখাও।

উত্তর:একটি বস্তুকে যদি সুষম দ্রুতিতে কোনো বৃত্তাকার পথে ঘুরানো হয়, তবে সময়ের সাপেক্ষে তার দ্রুতির কোনো পরিবর্তন হবে না। কেননা দ্রুতি স্কেলার রাশি; এটি কেবল তার মানের উপর নির্ভর করে। কিন্তু বৃত্তপথে ঘুরার ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে বেগের দিক পরিবর্তন হয়, তদুপরি এটি ভেক্টর রাশি বিধায় মানের পাশাপাশি দিক পরিবর্তনের দ্বারাও বেগ পরিবর্তিত হয়।

চিত্রে, A ও B বিন্দুতে বেগের মান একই; তথা দ্রুতি পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু বেগের দিক পরিবর্তিত হয়েছে বিধায় বেগ পরিবর্তিত হয়েছে।

08.চাঁদে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ এর 6 ভাগের এক ভাগ। পৃথিবীতে একটা পাথর একটা উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে এটি যে বেগে নিচে আঘাত করবে, চাঁদে একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে কি ছয় গুণ কম বেগে আঘাত করবে? (চাঁদে বাতাস নেই, ধরা যাক পৃথিবীতেও বাতাসের বাধা সমস্যা নয়।)

উত্তর:ধরি, পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণgeচাঁদে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণgm

∴ gm=ge6⇒gmge=16

উভয় ক্ষেত্রে, h উচ্চতা থেকে একটি বস্তু ছেড়ে দিলে পড়ন্ত বস্তুর সূত্রানুযায়ী, আদিবেগ,u = 0ms−1

পৃথিবীতে,

ve2= u2+ 2geh

⇒ ve=√2geh

চাঁদে,

vm2= u2+ 2gmh

⇒ vm=√2gmh

∴vmve=√2gmh2geh=√gmge=√16=1√6

∴ vm=ve√6

∴ ছয়গুণ কম বেগে আঘাত করবে না। বরং1√6গুণ বেগে আঘাত করবে।

09.সমত্বরণের বেলায় দ্বিগুণ সময়ে কি দ্বিগুণ দূরত্ব অতিক্রম করি?

উত্তর:আমরা জানি,

সমত্বরণে চলমান বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব,s = ut +12at2

স্থিরাবস্থা হতে চলমান হলে; আদিবেগ,u = 0ms−1

∴ অতিক্রান্ত দূরত্ব,s =12at2

অর্থাৎ, স্থিরাবস্থা হতে সুষম ত্বরণে চলমান বস্তুর সরণ তার সময়ের বর্গের সমানুপাতিক, (s ∝ t2)

এখানে, সময় দ্বিগুণ হলে,t2= 2t1

∴s2s1=t22t12=(2t1)2t12= 4

∴ s2= 4s1

∴ দ্বিগুণ সময়ে দ্বিগুণ দূরত্ব অতিক্রম করে না। বরং স্থিরাবস্থা হতে সমত্বরণে চলমান বস্তু দ্বিগুণ সময়ে চারগুণ দূরত্ব অতিক্রম করে।

10.একটি গাড়ি তোমার স্কুল থেকে 40 km পূর্ব দিকে গিয়েছে, তারপর 40 km উত্তর দিকে গিয়েছে, তারপর 30 km পশ্চিম দিকে গিয়েছে, তারপর 30 km দক্ষিণ দিকে গিয়েছে, তারপর 20 km পূর্ব দিকে গিয়েছে, তারপর 20 km উত্তর দিকে গিয়েছে, তারপর 10 km পশ্চিম দিকে গিয়েছে, তারপর 10 km দক্ষিণ দিকে গিয়েছে। গাড়িটি তোমার থেকে কোন দিকে কত দূরে আছে?

উত্তর:গাড়িটি আমার থেকে OH দূরত্বে অবস্থান করছে।

∴ পিথাগোরাসের উপাদ্য মতে,

OH =√OP2+ PH2

=√202+ 202km

∴ OH = 20√2km

∴ গাড়িটি আমার থেকে10√2kmদূরত্বে আছে। (Ans.)

11.একটি গাড়ির বেগ 30 km h−1, 1 minute পর গাড়িটির গতিবেগ সমত্বরণে বেড়ে হলো 50 kmh−1। এই সময়ে গাড়িটি কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে?

উত্তর:আমরা জানি,

s =u + v2× t

=30 + 502×160km

=23km

আদিবেগ,u = 30kmh−1

শেষবেগ,v = 50kmh−1

সময়,t = 1min =160hour

দূরত্ব,s = ?

12.তুমি 10 ms−1বেগে একটা বল আকাশের দিকে খাড়াভাবে ছুঁড়ে দিয়েছ। সেটা কতক্ষণে সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছাবে? সেই বিন্দুর উচ্চতা কত?

উত্তর:আমরা জানি, u বেগে নিক্ষিপ্ত বস্তুর সর্বাধিক উচ্চতা,H =u22g

এবং H উচ্চতায় উঠতে প্রয়োজনীয় সময়,t =ug

∴ H =1022 × 9.8= 5.102m এবংt =109.8= 1.02sec

∴ বস্তুটি 1.02 sec সময়ে তার সর্বাধিক উচ্চতা 5.102 m এ উঠবে।

13.সরল স্পন্দন গতি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:যদি কোনো পর্যায়বৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তুর গতিপথ সরলরৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয় ও সরণের সমানুপাতিক হয়, তবে তার গতিকে সরল স্পন্দন গতি বলে।

একটি স্প্রিংয়ের এক প্রান্তে কোনো ভর ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে এটি সাম্যাবস্থানের এদিক-ওদিক স্পন্দিত হতে থাকে, যা সরল স্পন্দন গতির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এক্ষেত্রে বস্তুটি তার পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে। এই গতির ক্ষেত্রে বস্তুর ত্বরণ সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী হয়, যাকে গাণিতিকভাবে ∝ দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

14.মহাবিশ্বের সব গতিই আপেক্ষিক-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:মহাবিশ্বের সব গতিই আপেক্ষিক বলতে বোঝায় মহাবিশ্বের কোনো গতি পরম না এবং এই কথার অর্থ হলো কোনো বস্তুর গতি সবসময় অন্য কোনো বস্তু তুলনায় নির্ধারিত হয়। যে বিন্দু সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান, স্থিতি ও গতি ইত্যাদি নির্ণয় করা হয় তাকে প্রসঙ্গ বিন্দু বলে। গতি সবসময় পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ বিন্দুর সাপেক্ষে নির্ণয় করা হয়। তাই সকল গতিই আপেক্ষিক।

15.ত্বরণকে ভেক্টর রাশি বলা হয় কেন?

উত্তর:সময়ের সাথে বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। ত্বরণ,a =v − ut

ত্বরণকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে হলে মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন তাই ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি।

16.একটি গাড়ির গড়বেগ 4 ms−1বলতে কি বোঝায়?

উত্তর:একটি গাড়ির গড়বেগ 4 ms−1বলতে বোঝায়, গাড়িটি নির্দিষ্ট দিকে গড়ে প্রতি সেকেন্ডে 4 m দূরত্ব অতিক্রম করে।

গড়বেগ হলো কোনো বস্তুর মোট সরণ এবং মোট অতিক্রান্ত সময়ের অনুপাত। যেহেতু বেগ একটি ভেক্টর রাশি, তাই এর একটি নির্দিষ্ট দিক থাকে। অর্থাৎ, গাড়িটি তার সম্পূর্ণ যাত্রাপথে অসম বেগে চললেও, এর মোট সরণকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায় এটি নির্দিষ্ট দিকে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে 4 m পথ অতিক্রম করেছে।

17.ঘূর্ণনরত ঘড়ির কাঁটার ত্বরণ থাকে কি? ব্যাখ্যা কর।[সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজ]

উত্তর:ঘূর্ণনরত ঘড়ির কাঁটার ত্বরণ থাকে। ঘূর্ণনরত ঘড়ির কাঁটা সমদ্রুতিতে ঘুরলেও, তার গতির দিক সর্বদা পরিবর্তন হয়। ফলে ত্বরণের সৃষ্টি হয়।

আমরা জানি, বেগ একটি ভেক্টর রাশি। এর মান ও দিক উভয়ই আছে। তাই বেগের মান একই থাকলেও, দিক পরিবর্তন হলে বেগের পরিবর্তন হয়। আর বেগ পরিবর্তন হলেই ত্বরণ থাকে। একারণেই ঘূর্ণনরত ঘড়ির কাঁটার ত্বরণ থাকে।

18.বেগ বনাম সময় লেখচিত্র থেকে কী কী রাশি পাওয়া সম্ভব?

উত্তর:বেগ বনাম সময় লেখচিত্রের ঢাল থেকে ত্বরণ নির্ণয় করা সম্ভব। সংজ্ঞানুসারে, ত্বরণ হল বেগের পরিবর্তনের সাথে সময়ের পরিবর্তন এর অনুপাত। অর্থাৎ বেগের পরিবর্তনের হার। গাণিতিকভাবে,a =v − ut=বেগের পরিবর্তনসময়ের পরিবর্তন

গ্রাফ থেকে দুইটি মুহূর্তের বেগ এবং সময়ের মান এর পরিবর্তনের অনুপাত ত্বরণ কে নির্দেশ করবে।

আবার, বেগ বনাম সময় লেখচিত্রে নির্দিষ্ট দুইটি সময়ের ব্যবধির মধ্যে নির্ণেয় ক্ষেত্রফল ঐ সময়ের মধ্যে বস্তুর অতিক্রান্ত সরণ নির্দেশ করে।

তাহলে, বেগ বনাম সময় লেখচিত্র থেকে ত্বরণ এবং সরণ এই দুইটি রাশি নির্ণয় করা সম্ভব।

19.বেগ বনাম সময় লেখচিত্রের ঢাল থেকে গতির প্রকৃতি জানা যায়- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:বেগ বনাম সময় লেখচিত্রের ঢাল থেকে ত্বরণ নির্ণয় করা যায়।

সংজ্ঞানুসারে, ত্বরণ হল বেগের পরিবর্তনের সাথে সময়ের পরিবর্তন এর অনুপাত। অর্থাৎ বেগের পরিবর্তনের হার। গাণিতিকভাবে,a =v − ut=বেগের পরিবর্তনসময়ের পরিবর্তন

বেগের পরিবর্তন যদি সময়ের পরিবর্তনের সাথে ধ্রুব (ধনাত্মক) থাকে, তাহলে গ্রাফিক্যে ধনাত্মক ঢাল বিশিষ্ট সরলরেখা হয়। তার অর্থ হল বস্তুটির বেগ সময়ের সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে বা সমত্বরণে চলমান। যদি ঢাল শূন্য হয় তাহলে লেখচিত্রটি সময়ের অক্ষের সমান্তরাল হবে। এর মানে হল বস্তুটি সমবেগে বা শূন্য ত্বরণে চলমান। যদি ঢাল ধ্রুব কিন্তু ঋণাত্মক আসে, তার অর্থ হল বস্তুটি সমমন্দনে চলমান এবং বেগ হ্রাস পাচ্ছে।

20."একই গতিশীল বস্তুতে একাধিক গতি থাকতে পারে"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:সাধারণত কোনো গতিশীল বস্তু তার গতিপথে চলার সময় এক বা একাধিক গতিতে চলমান থাকে। এই গতির অবস্থা ও প্রকারভেদ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। বস্তুটি গতিশীল থাকা অবস্থায় সেটি সরাসরি সোজা পথে নিক্ষিপ্ত হলো নাকি গতিপথে গড়িয়ে চললো, তার উপর নির্ভর করে গতিশীল বস্তুতে বিদ্যমান গতির প্রকারভেদ। উদাহরণস্বরূপ, চাকাকে গড়িয়ে চালালে এর সরলরৈখিক গতি থাকার পাশাপাশি ঘূর্ণন গতিও বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ, চাকা কেবল সরলরৈখিক পথে সামনের দিকে এগিয়ে যায় না, এর কেন্দ্রের সাপেক্ষে ঘুরেও চলে। এ থেকে বোঝা যায়, একই গতিশীল বস্তুতে একাধিক গতিও বিদ্যমান থাকতে পারে।

15 সেকেন্ড
অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...
ফাইল ডাউনলোড করুন

SSC পদার্থবিজ্ঞান অধ্যায় ২ পরীক্ষার প্রস্তুতি

গতি গুরুত্বপূর্ণ সকল নোট ও প্রশ্ন নিয়মিত অনুশীলন করলে অধ্যায়টির মূল বিষয়গুলো পুনরাবৃত্তি করা সহজ হয়। প্রথমে নোট পড়ে ধারণা পরিষ্কার করো, এরপর জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে বুঝে লেখার চেষ্টা করো। তারপর অনুধাবনমূলক প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুশীলন করো এবং শর্ট প্রশ্নের উত্তর নিজে লিখে যাচাই করো। যেসব প্রশ্নে ভুল হয়, সেগুলো আবার পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নাও।

এই পেজে থাকা গতি অধ্যায়ের নোট, জ্ঞানমূলক প্রশ্ন, অনুধাবনমূলক প্রশ্ন এবং শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর SSC পরীক্ষার প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে সহায়তা করবে। নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক ধারণা এবং ভুল সংশোধনের মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানের এই অধ্যায়ে নিজের প্রস্তুতি আরও উন্নত করা সম্ভব।

এই অধ্যায়ের আরো গুরুত্বপূর্ণ নোট :

পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আরও জানতে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) ওয়েবসাইটটি দেখতে পারো।

Subject Categories

Loading...