পর্যায় সারণী Note ( Bangla Version) SSC

পর্যায় সারণির ইতিহাস

পর্যায়সারণির বৈশিষ্ট্য


(i) পর্যায়সারণির বাম থেকে ডান পর্যন্ত বিস্তৃত আনুভূমিক সারি গুলোকে বলা হয় পর্যায়। এতে ৭ টি পর্যায় রয়েছে।

(ii) পর্যায়সারণির উপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত খাড়া স্তম্ভগুলোকে গ্রুপ বা শ্রেণী বলা হয়। এতে মোট ১৮ টি গ্রুপ রয়েছে।

(iii) মূল পর্যায়সারণির নিচে আলাদাভাবে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড নামে দুটি সারি রয়েছে। এরা যথাক্রমে ৬ ও ৭ নং পর্যায় এবং এরা ৩ নং গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।

(iv) প্রথম পর্যায়ে ২ টি মৌল, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে ৮ টি মৌল, ৪র্থ ও ৫ম পর্যায়ে ১৮ টি মৌল এবং ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ে ৩২ টি করে মৌল রয়েছে।

(v) একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে মৌলসমূহের ধর্ম ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়।

(vi) একই গ্রুপের মৌলগুলোর ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকমের হয়।

ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান নির্ণয়

পর্যায় বের করার নিয়ম:

১. প্রথমে মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা দেখতে হবে।
২. ইলেকট্রন বিন্যাস করতে হবে।
৩. সর্বোচ্চ প্রধান শক্তিস্তরের নাম্বার হবে পর্যায় সংখ্যা।

উদাহরণ-:
₃Li → 1s² 2s¹ → ২য় পর্যায়
₁₁Na → 1s² 2s² 2p⁶ 3s¹ → ৩য় পর্যায়

গ্রুপ বের করার নিয়ম :

১. ইলেকট্রন বিন্যাস করার পর শুধু s অরবিটাল থাকলে ঐ অরবিটালের ইলেকট্রন সংখ্যা গ্রুপ সংখ্যা।

উদাহরণ-
₁H → 1s¹ → গ্রুপ-1

২. প্রধান শক্তিস্তরে s ও p অরবিটাল থাকলে এদের মোট ইলেকট্রন সংখ্যার সাথে 10 যোগ করলে গ্রুপ সংখ্যা।

উদাহরণ-
₅B → 1s² 2s² 2p¹
গ্রুপ → 2 + 1 + 10 = 13

৩. সর্বশেষ শক্তিস্তরে s এর ঠিক আগের প্রধান শক্তিস্তরে d অরবিটাল থাকলে s ও d এর ইলেকট্রন সংখ্যার যোগফল হবে গ্রুপসংখ্যা।

উদাহরণ-
₂₅Mn → 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 3d⁵ 4s²
গ্রুপসংখ্যা → 5 + 2 = 7

পর্যায় সারণির গ্রুপ ও পর্যায় মনে রাখার কৌশল

গ্রুপ -5:

পর্যায়সারণির কিছু ব্যতিক্রম নিয়ম

হাইড্রোজেনের অবস্থান:

হাইড্রোজেনের সর্ববহিঃ শক্তিস্তরে একটি ইলেকট্রন রয়েছে এবং এর অনেক ধর্ম ক্ষার ধাতুর সাথে মিলে যাওয়ায় পর্যায়সারণিতে একে গ্রুপ ১ এ স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রুপ ১৭ এর মৌলগুলোর মতো হাইড্রোজেনও একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং স্থিতিশীল অবস্থা অর্জন করে, এর বেশ কিছু ধর্ম হ্যালোজেন গ্রুপের মৌলসমূহের সাথে মিলে যায়। তবে সবকিছু বিবেচনা করে হাইড্রোজেনকে গ্রুপ-১ এ স্থান দেওয়া হয়েছে।

হিলিয়ামের অবস্থান:

হিলিয়ামের সর্ববহিঃ শক্তিস্তরে ২টি ইলেকট্রন রয়েছে এবং এই হিসেবে He কে গ্রুপ-২ অর্থাৎ ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুর সাথে রাখা উচিত ছিল। কিন্তু হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং গ্রুপ-২ এর মৌলসমূহ তীব্র ধাতব ধর্মযুক্ত। তাই হিলিয়ামকে অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সাথে গ্রুপ-১৮ তে স্থান দেওয়া হয়েছে।

ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌলের অবস্থান:

মূলত ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌলগুলো গ্রুপ-৩ এর অন্তর্ভুক্ত। পর্যায়-৬ ও পর্যায়-৭ কে যথাক্রমে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড বলা হয়। কিন্তু গ্রুপ-৩ এ এতগুলো মৌল মূল সারণিতে স্থান দিলে পর্যায়সারণির সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই পর্যায় সারণির সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌলগুলোকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে।

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

পর্যায়সারণিতে অবস্থিত মৌলসমূহের কিছু ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম যেমন- ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, গলনাঙ্ক, স্ফুটাঙ্ক, আয়নীকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা, ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়—এগুলোকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলা হয়।

নিচে মৌলসমূহের পর্যায়বৃত্ত ধর্মগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-

Metallic Character (ধাতব ধর্ম):
যে সকল মৌল চকচক করে, আঘাত করলে শব্দ হয়, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে তাদেরকে ধাতু বলে। আবার যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগ করার প্রবণতা ধাতব ধর্ম। যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারে, সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। পর্যায় সারণির বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম কমে যায় এবং উপর থেকে নিচে গেলে ধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।

Non-Metallic Character (অধাতব ধর্ম)
যে সকল মৌল চকচক করে না, আঘাত করলে শব্দ হয় না, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে না তাদেরকে অধাতু বলে। আবার যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা অধাতব ধর্ম বলে। যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে, সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায় এবং উপর থেকে নিচে গেলে অধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। যে সকল মৌল কোনো কোনো সময়ে উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে তাদেরকে অপধাতু বলে। যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু। পর্যায়সারণির যে কোন পর্যায়ের বাম দিকের মৌলগুলো সাধারণত ধাতু, মাঝের মৌলগুলো অপধাতু এবং ডান দিকের মৌলগুলো সাধারণত অধাতু।

Atomic Size / Atomic Radius (পরমাণুর আকার / ব্যাসার্ধ) :
কোন গ্রুপ এ উপর থেকে নিচে নামা হলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর ফলে শক্তিস্তরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং একই সাথে পরমাণুর আকারও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ এই গ্রুপের উপর থেকে নিচে যেতে থাকলে বাইরের দিকে একটি নতুন করে শক্তিস্তর যুক্ত হতে থাকে এবং এর ফলে পরমাণুর আকার বাড়তে থাকে।
আবার কোন পর্যায়ে বাম দিক থেকে ডান দিকে যাওয়া হলে, পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শক্তিস্তরের সংখ্যা একই থাকে কিন্তু ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আবার কোন পর্যায়ে বাম দিক থেকে ডান দিকে যাওয়া হলে, পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শক্তিস্তরের সংখ্যা একই থাকে। কিন্তু ইলেকট্রন সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর ফলে নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন সংখ্যা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিক ইলেকট্রন সংখ্যার মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলো শক্তির নিউক্লিয়াসের কাছে চলে আসে। ফলে পরমাণুর আকার ছোট হয়ে যায়।

Ionization Energy (আয়নীকরণ শক্তি):
গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল পরমাণু থেকে একমোল ইলেকট্রন অপসারণ করে একমোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তির প্রয়োজন তাকে ঐ মৌলের আয়নীকরণ শক্তি বলে।
একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে নামলে আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াস থেকে বাহিরের স্তরে যেতে থাকে। যার ফলে নিউক্লিয়াসের উপর আকর্ষণ কমতে থাকে, এ কারণে বাহিরের স্তর থেকে ইলেকট্রন অপসারণে কম শক্তির প্রয়োজন হয় অর্থাৎ আয়নীকরণ শক্তি কম।
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে যেতে থাকলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শক্তিস্তর বাড়ে না। কিন্তু ইলেকট্রন সংখ্যা বাড়তে থাকে। এতে ইলেকট্রনগুলোর উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় যার ফলে ইলেকট্রন অপসারণে বেশি শক্তি লাগে অর্থাৎ আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।

Electron Affinity (ইলেকট্রন আসক্তি):
গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের বিচ্ছিন্ন এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয় তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে।
একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে নামলে পরমাণুর ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়, আবার ব্যাসার্ধ বাড়ার সাথে সাথে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াস থেকে দূরে যেতে থাকে ফলে নিউক্লিয়াসের সাথে ইলেকট্রনের উপর আকর্ষণ হ্রাস পেতে থাকে। যার ফলে উপর থেকে নিচে যেতে যেতে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে কম শক্তি নির্গত হয় অর্থাৎ ইলেকট্রন আসক্তি হ্রাস পায়।
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে যেতে থাকলে আকার কমতে থাকে ফলে নিউক্লিয়াস বহিঃস্থ ইলেকট্রনগুলোকে প্রবল ভাবে আকর্ষণ করে। যার ফলে অণু থেকে একটি ইলেকট্রন বহিঃ শক্তিস্তরে যুক্ত হতে বেশি শক্তি নির্গত হয় অর্থাৎ ইলেকট্রন আসক্তি বৃদ্ধি পায়।

Electronegativity(তড়িৎ ঋণাত্মকতা) :
সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ অবস্থায় শেয়ারকৃত ইলেকট্রনকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার প্রবণতাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে।
কোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে যাওয়া হলে পরমাণুর আকার তত হ্রাস পেতে থাকে অর্থাৎ ইলেকট্রনগুলোর উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বৃদ্ধি পেতে থাকে।
আর কোনো গ্রুপে উপর থেকে নিচে নামা হলে পরমাণুর আকার তত বাড়তে থাকে অর্থাৎ ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াস থেকে দূরে সরে যায় তাই e এর প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ কমতে থাকে ফলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান কমতে থাকে।

মৌলসমূহের পর্যায়বৃত্ত ধর্মসমূহের সাথে পর্যায় ও গ্রুপের সম্পর্ক

পর্যায় সারণী Note ( Bangla Version) SSC – Edutrack BD